Home » অন্যান্য » সক্রেটিস বলেছেন “নিজেকে জানো”

সক্রেটিস বলেছেন “নিজেকে জানো”

754 বার পঠিত

বিদ্যুৎ নেই,পানি নেই,গ্যাস নেই বলে আমরা নিত্যদিন হাহাকার করি চিৎকার করি। সুযোগ পেলেই দেশের সরকারকে এক হাত দেখে নেই। অথচ কখনো ভাবিনা যে কেবল সরকারের ঘাড়ে সব দোষ চাপিয়ে দিলেই দায়মুক্তি হয়না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ক্লাস থেকে বের হতাম দেখতাম ফাকা ক্লাসরুমে হরদম ফ্যান চলছে,আলো লাইটগুলো জ্বেলে রাখা হয়েছে। পথে যেতে যেতে দেখতাম ট্যাপ দিয়ে অবিরাম পানি পড়ছে আর বাসায় ফিরলে দেখতাম সকালে রান্না শেষে গ্যাসের চুলা বন্ধ করা হয়নি বলে সেই চুলা দুপুর গড়িয়ে বিকেল অব্দি জ্বলছে। এভাবেই বিদ্যুতের ঘাটতি হচ্ছে,পানির অভাব দেখা দিচ্ছে,দিনে দিনে শেষ হয়ে যাচ্ছে গ্যাস সম্পদ। আমি তখন এসব নিয়ে ভাবতামনা।

হঠাৎ একটা স্কুলের গেটে দেখলাম সক্রেটিসের বাণী “নিজেকে জানো”। তিনি নিজেকে জানো বলতে কি বুঝিয়েছেন তা নিয়ে কয়েকদিন চিন্তা করলাম এবং কয়েকজন সিনিয়র ভাইয়ের সাথে কথা বললাম। তারা তাদের সাধ্যমত আমাকে সে বিষয়ে জ্ঞান দিল। সেই আমার শুরু । নিজেকে জানতে গিয়ে আমার ভিতরে খুজে পেলাম অন্য আমিকে। অজান্তে কত অন্যায় করেছি,নিজ চোখে দেখেছি  কিন্ত প্রতিকারের ব্যবস্থা করিনি। ভাবলাম বদলে যাব এবং শুরুটা তখনই। বাসাতে নিত্যদিনে গ্যাসের চুলা বন্ধ করার তাগিদ দেই। নিজে লক্ষ্য করি বন্ধ করা হয়েছে কিনা। আমাদের বাসাটা তিন রুমের। রাতে সবাই যখন টিভি দেখে অন্য দু রুমের ফ্যান লাইট বন্ধ করে রাখি। ক্লাসে এসে যদি দেখি সবগুলো লাইট ফ্যান অন করা অথচ পিছনের সারিতে কেউ নেই তখন উঠে বাকিগুলো বন্ধ করে দেই,ক্লাস শেষেও তাই করি। ক্লাস না থাকলে ঘুরে ঘুরে দেখি। চোখের সামনে ফাকা ক্লাসে ফ্যান বা লাইট চলতে দেখলে বন্ধ করে দেই। আমি আমার বন্ধুদেরকেও এ ব্যাপারে উৎসাহ দিতে চেষ্টা করি।

আমি এক অতি ক্ষুদ্রপ্রাণ। আমার প্রচেষ্টা কতটা সফলতা আসবে জানিনা কিন্ত এভাবে যদি একে একে সবাই অন্তত এ তিনটি কাজ করি তবে কী হবে? আমার বিশ্বাস এই তিনটি বৃহৎ সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে। লোড শেডিং এর জন্য দায়ী কি সরকার একা না আমরাও সেটা ভেবে দেখতে হবে। সরকারের উৎপাদন যে পরিমান আমাদের চাহিদা তার চেয়ে বেশি তাহলে সরকার সেটা দিবে কোথা থেকে? তাই আমাদের নিজেদের সচেতন হয়ে প্রয়োজন অতিরিক্ত এতটুকু পরিমাণ গ্যাস,পানি বা বিদ্যুৎ ব্যবহার করবোনা বলে আমাদের অঙ্গীকার করা উচিৎ।

এ ব্যাপারে আমরা প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটা সচেতনতা আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি। শিক্ষকদের সেই আয়োজনে সামিল করে নিতে পারি যেন তারা আমাদের পরামর্শ দিতে পারেন এবং তাদের বাসায় যারা আছেন তাদেরকেও সচেতন করতে পারে। আর এ কাজে উৎসাহ যোগানোর জন্য সেই মহতী আন্দোলনের কাজগুলো মিডিয়াতে প্রচার করতে হবে ফলে আরো অনেকে উৎসাহিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আর এভাবেই একটু একটু করে আমাদের সমস্যা আমরাই সমাধান করে নিতে পারি। কী নেই তা নিয়ে ভাবার সময় নেই বরং কী আছে তা দিয়ে কতটুকু সফলতা আনা যাবে তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এই দেশটা কিন্তু সরকারের একার নয় এই দেশটা আমাদের সবার। সুতরাং ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নিবার্চন করেই সব শেষ মনে করা বোকামী। প্রতিনিধি নিবার্চন করার পরও আমাদের অনেক দায়িত্ব আছে সেগুলো আমাদের পালন করতে হবে।

প্রতিনিধি শুধু এক পযার্য়ে কথা বলে কাজটাকে সহজ করবে আর সেই প্রতিনিধিকে দিয়ে মুলত কাজটা করিয়ে নেয়ার দায়িত্ব আমাদেরই। আসুন আমরা সবাই সচেতন হই এবং দেশটাকে সত্যিকার অর্থে সুন্দর করে গড়ে তুলি। মুক্তি যুদ্ধের মাধ্যমে দেশটা কেবল স্বাধীন হয়েছে অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে হবে আমাদের নিজেদেরই। মুক্তিযোদ্ধারা এখন পড়ন্ত বিকেলে । অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে আমাদেরই মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকায় অবতীর্ন হতে হবে।

 

 

জাহিদ হাসান

এস এম হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

মন্তব্য
  • sameen সেপ্টেম্বর 15, 2012 at 10:09 অপরাহ্ন

    ধন্যবাদ জাহিদ ভাই, প্রথমে আপনার চমৎকার অভ্যাস, আর তারপর লেখার জন্য। আপনি সন্দিহান যে আপনার এই অভ্যাস সামগ্রিকভাবে কতটুকু কাজে দেবে, কিন্তু আমার মনে হয়, বেশি না এই যে আমরা যারা বদলে যাও বদলে দাও, মিছিলে প্রতিদিন আসি, (আমাকে নিয়মিত লেখকেরা নতুন মনে করতে পারেন, তবে আমি প্রতিদিন আ্পনাদের লেখা পড়ি, আপনাদের তুলনায় আমার লেখালেখির অবস্থা এতটাই ভাল(ঃ-;) যে আর লিখতে আংগুল সরে না) তো স্রেফ আমরাই যদি নিজেরা ঠিক করি যে আপনার মত অপচয় থামাব, মাঝখানে একটা লেখা পরেছিলাম, (সম্ভবত hossain. farhana র) যে কিভাবে ছোট একটা ব্যাগ সাথে রেখে আমরা যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে পারি, যদি আমরা সবাই ঠিক করি যে সাধ্যের মধ্যে পরিবেশ দুষণ না করার চেষ্টা করব তাহলেই অনেক হবে। আসলে কোন কাজ শুরু করাটাই বড় কথা, আমি পরিবেশবিগ্ঞানএপড়ি, কিন্তু আমার সাথের বন্ধুরাই দেখি সবচেয়ে বেশি পরিবেশ দূষণ করে, আমি প্রায় এক বছর চেষ্টা করেও একজনের বেশি কাউকে যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার অভ্যাস করাতে পারিনি। আপনার লেখা পড়ে যদি ২০-২৫জনও আপনার অভ্যাস গ্রহণ করে তাহলেই অনেক।

    • zazafee সেপ্টেম্বর 15, 2012 at 10:50 অপরাহ্ন

      সামিন ভাই অত্যন্ত ধৈর্য্য সহকারে লেখাটা পড়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদানের জন্য ধন্যবাদ। আপনাদের দিকনিদের্শনা আর সকলের সহযোগিতায় আমরা সমাজকে বদলে দিতে পারবো বলে আশাবাদী। ভাল থাকুন।

  • কে আই তাজ সেপ্টেম্বর 15, 2012 at 7:33 অপরাহ্ন

    Know Thyself- এটি এমন এক জাদুকরী স্পৃহা- মানব চেতনাকে সম্পূর্ণ পাল্টে দিতে সক্ষম। গত বেশ কিছুদিন যাবৎ নিজেকে আবিষ্কার করার চেষ্টায় মগ্ন আছি তীব্রভাবে। প্রত্যেক সৃষ্টির উচিৎ অত্র পন্থা অবলম্বন করা। শত অসঙ্গতি দূর হয়ে যায় তাতে।
    চমৎকার লেখনী– শুভেচ্ছা রইল।

    • zazafee সেপ্টেম্বর 15, 2012 at 10:51 অপরাহ্ন

      সক্রেটিস ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী একজন মানুষ যিনি আজও সমান ভাবে সমাদ্রিত। সেই সময়ে তিনি যে কথাটি বলে গেছেন শুধু এ একটি কথাই যদি আমরা স্মরণ করতে পারতাম এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে পারতাম তাহলে কোন হানাহানি থাকতোনা থাকতোনা কোন সমস্যা। মতামতের জন্য ধন্যবাদ। ভালথাকুন।

© বদলে যাও, বদলে দাও!